বোমকেই যেতে হয় এ বোমকাইয়ের মায়াজালে
"A look in a saree is enough to slay"
সত্যিই তো। একদিন শাড়ি পরে বেশ কয়েকটি ফটো তুললে দশদিন মনটা খুশি খুশি থাকে। একেবারে হক কথা। "শাড়ি তে নারী" কি আর এমনি এমনি বলে!আলমারি খুললে ১০ রকমের শাড়ি দাঁত কপাটি খুলে হাসবে, তাহলেই না নারী জীবনের সার্থকতা! তা সে বেনারসি হোক, বা তাঁতই হোক, কিংবা কাঞ্জিভরম। হোক না তা পৈঠানি,বোমকাই।
বোমকাইয়ের কালেকশন ও নেহাত মন্দ হয় না। রঙ বাহারি বোমকাইয়ে বোমকে দেওয়া যাবে বেশ। তবে তার জন্য বোমকাই দেখতে কেমন, কী তার বৈশিষ্ট্য, কেমন করেই বা এলো, কতো দাম হাঁকতে পারে, জেনে নেওয়া তো দরকার নাকি! আসুন তবে জেনে নি বিস্তারিত।
ইতিহাস:
বোমকাইয়ের পুরো নাম গঞ্জাম বোমকাই। উড়িষ্যা রাজ্যের গঞ্জাম জেলার পত্রপুরের চিলিকিটির কাছে ছোট্ট গ্রাম বোমকাই। কবিরাজ নায়েক ছিলেন এই শাড়ির একমাত্র উইভার। তাঁর স্ত্রী সবিতাও তাকে এই কাজে সঙ্গ দিতেন। তৎকালীন শাসক রমাই দেব ও এর বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। এ শাড়িতে কাজের জন্য বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পুরস্কার ও পেয়েছেন কবিরাজ নায়েক। তাঁর অবর্তমানেও এই শাড়ির মান বৃদ্ধি করে গেছেন তাঁর স্ত্রী সবিতা। সঙ্গে রয়েছে গঞ্জাম জেলারই পদ্মনাভপুর ক্লাস্টার। আসল বোমকাই বলতে একসময় এই বোমকাইকেই বোঝানো হতো। পরবর্তীতে কালে পশ্চিম উড়িষ্যায় অন্য রীতিতে বোমকাই বোনা শুরু হয়।
বর্ণনা:
বোমকাই শাড়ি ভারতের ওড়িশার একটি তাঁতের শাড়ি। এটি গঞ্জাম জেলার বোমকাই গ্রামে উৎপাদন করা হয়, তবে পরে এটি মূলত সুবর্ণপুর জেলার ভুলিয়া সম্প্রদায় দ্বারা উৎপাদিত হয়। বোমকাই শাড়ি ভারতের বিভিন্ন ফ্যাশন শোতে প্রদর্শিত জনপ্রিয় পরিচ্ছদ।
নকশা:
বোমকাই হল ঐতিহ্যবাহী রঙের সাথে আধুনিক ডিজাইনের মেলবন্ধন। বোমকাই সুতির শাড়িগুলি বেশিরভাগ অভ্যাসগত পোশাকের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং রেশমি শাড়িগুলি আনন্দ অনুষ্ঠান এবং পবিত্র অনুষ্ঠানে পরা হয়। সৌন্দর্যের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাড়িগুলি মনোমুগ্ধকর রঙে তৈরি হয়। প্রাচীন বিশ্বাস মতে, এর পাড় চিত্রিত করা হয় বেশিরভাগ মাছের নকশায় । এই নকশা সাফল্য ও সমৃদ্ধির লক্ষণ বলে বিশ্বাস করা হয়। এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হ'ল পাড় এবং আঁচলের নকশায় এর সুতোর বুনন। শাড়িটি অত্যন্ত সরলভাবে তৈরি। এতে কিছু উপজাতীয় রঙ রয়েছে। শাড়িটি সাধারণত লাল, কালো এবং সাদা জমিনে রঙ করা হয়। যাইহোক, আজও শাড়িটি তার মৌলিকতা বজায় রেখে বিভিন্ন ডিজাইন এবং একাধিক রঙে বিদ্যমান। বহুরঙের চূড়ান্ত পণ্যটি উৎপাদন করার জন্য ওয়ার্পগুলি উপযুক্তভাবে বোনা হয়। কিছু নকশা বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেমন-পদ্ম, মন্দির (মন্দির), স্কোয়ার টাইপ প্যাটার্ন, কচ্ছপ ইত্যাদি।
দাম:
একটি বোমকাই শাড়ি তৈরী করতে প্রায় কুড়ি দিন সময় লাগে। তবে শাড়িটি মধ্যবিত্তের পকেটে টান ধরানোর মতো একেবারেই নয়। বোমকাই শাড়ির দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৭০০ টাকা থেকে শুরু হয় যা ২২৫০ কিংবা ৩০০০ টাকা পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে।
বোমকাই শাড়ি ও উড়িষ্যা:
বোমকাই শাড়ি উড়িষ্যার নিজস্ব সৃষ্টি। বোমকাই শাড়ি প্রভু শ্রী জগন্নাথের আপন রাজ্য উড়িষ্যার জি আই ট্যাগ( জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেক্স বা ভৌগোলিক নির্দেশক) প্রাপ্ত একটি শাড়ি।
এভাবেই যুগ যুগ ধরে বোমকাইয়ের আঁচল বেয়ে চলে আসা ইতিহাস, তার ঐতিহ্য, সৌন্দর্য তাকে করে তুলেছে অনন্যসাধারণ, যা জগৎজোড়া সাফল্য আনতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই ফ্যাশনের দুনিয়ায় এ যে এক অসাধারণ কৃতিত্বের দাবি রাখে তা বলাই বাহুল্য। কি বলেন, আসছে রথযাত্রায় সকলকে তাক লাগাতে বোমকাইয়ের সাজ হয়ে যাক?
Nice one
ReplyDeleteWow 😳❤️
ReplyDeleteSundor
ReplyDeleteGood one
ReplyDeleteসুন্দর ❤
ReplyDeleteNice 👍👍
ReplyDeleteVery good
ReplyDeleteBah
ReplyDeleteদারুন ❤️👌
ReplyDeleteValo hoy che
ReplyDelete❤️👌
ReplyDeleteদারুন 😁❤️
ReplyDeleteSundor
ReplyDeleteJhub bhalo hoeche ❤️
ReplyDeleteBahh❤
ReplyDeleteDurdanto ❤️ khub informative
ReplyDeleteAwesome maa❤totally appreciate it❤
ReplyDelete