বেনারসির রূপকথা ,রূপকথার বেনারসি
অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছ'টা
এতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি
বিয়েতে এতোগুলো শাড়ির মধ্যে নিশ্চয়ই দুখানি বেনারসি ছিল। তা থাকাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। বেনারসি শব্দ টা শুনলেই যেন প্রথমে আমাদের মাথায় আসে বিয়ে বাড়ি। কনের সাজে,বেনারসি শাড়ি এক অপূর্ব সংযোজন। বেনারসি ছাড়া যেন বাঙালি বিয়ে ভাবাই যায় না। শুধু কনে নয়, আর সকলেই পছন্দ করে নিজেদের বেনারসির সাজে সাজাতে। এটি শুধু ব্যবহার্যই নয়, ইমোশন ও বটে।
তবে শুধুমাত্র বিয়েতেই নয়, এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই শাড়ি যেন ফ্যাশন ফিয়েস্তা। আর বেনারসি অতি সহজেই কাড়তে পারে নজর।এতে আপনাকে দেখাবে রুচিশীল ও আকর্ষণীয় তো বটেই।
এ তো নাহয় গেল বেনারসি পরিধানের কথা। কেমন করে জন্ম হল বেনারসির? ঠিক কেমন করেই বা তা হয়ে উঠল বাঙালি বিয়ের অপরিহার্য অঙ্গ? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বেনারসির সেই আদি কথা ,বুনন ও প্রকারভেদ।
ইতিহাস বলে, বেনারসি শাড়ি প্রথম তৈরি হয় উত্তরপ্রদেশের বেনারসে। বেনারসের নামানুসারে এই শাড়ির নাম হয় বেনারসি।আর্যসমাজের বস্ত্র বুনন শিল্পী রা তন্তুবায় নামে পরিচিত ছিলেন। ঋগ্ বেদের সময়ে হিরন্ময় বস্ত্রের প্রচলন ছিল।সোনার সুতো মিশিয়ে বানানো হতো সেই কাপড়। মূলত তাঁত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে তৈরি হয় বেনারসি।১৬০৩ খ্রিস্টাব্দে দুর্ভিক্ষের পর গুজরাটের রেশম তাঁতিরা বেনারসে স্থানান্তরিত হন। তাদের সিংহাভাগ ছিলেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। সম্ভবত ১৭ এর শতকে বেনারসে রেশম কিংখাব বুনন শুরু হয়েছিল। আঠারো ও উনিশ শতকে এর উৎকৃষ্টতা বৃদ্ধি পায়। অবশ্য মোঘল আমলে স্বর্ণ ও রৌপ্য সুতোর ব্যবহারে জটিল নকশার বুনন এতে আলাদা মাত্রা সংযোজন করে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাঁত শিল্পীরা , বেনারস থেকে প্রায় ৩০০ টা তাঁত শিল্পী পরিবার( ইসলাম ধর্মাবলম্বী) পূর্ব পাকিস্তানে( অধুনা বাংলাদেশ) চলে আসেন। তাঁরা মূলত ঢাকার মীরপুর ও পুরোনো ঢাকায় বসবাস করতে শুরু করেন।কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার পরেও তাদের ব্যবসা অপরিবর্তিত থাকে। অভিনব ডিজাইন, উন্নত রুচি এবং নিপুণ বুননের কারণে ভারত ও বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে বেনারসি শাড়ি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হন এবং তাঁত শিল্পীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে বাংলার মানুষের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা বাড়ে। যুগে যুগে নকশায় এসেছে ভিন্নতা। বেনারসি তৈরি করেছে আভিজাত্য। বুননের কারণে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ দুই বাংলাতেই বেনারসি শাড়ি সমান জনপ্রিয়। কাজেই এর ইতিহাস যে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পদ্ধতি: বেনারসি শাড়ি তৈরি হয় মানবচালিত যন্ত্রের সাহায্যে। এই শাড়ি তৈরির মূল উপাদান কাঁচা রেশম সুতো। এর পাশাপাশি জড়ি সুতো ব্যাবহৃত হয় বুননের জন্য। যদিও বর্তমানে দেশি সুতোর দাম বৃদ্ধির জন্য চায়নার সুতোও ব্যবহৃত হয়।
বিদেশ থেকে আনা সুতো প্রথমে রঙ করতে হয় কারিগরদের। তারপর তা সাবান ও গরম জলে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর শুরু হয় বুননের কাজ। বুননের নকশা সহজ ও তুলনামূলক কম ঝঞ্জাটের হলে শিল্পীর সময় লাগে এক সপ্তাহ।
নিঁখুত বুনন: নিঁখুত নকশা বুনন করতে এক একজন শিল্পীর এক এক মাস সময় লেগে যায়। শাড়ি তৈরির পর সেটি পালিশ ও করা হয়।
বেনারসি শাড়ির রঙের বৈচিত্র্য ও লক্ষ্যণীয়। বিভিন্ন রঙের জমকালো শাড়ির ওপর সোনালি ও রূপালি জড়ির কাজ নজর কাড়ে।
সুতোর কাজ: বেনারসি শাড়ি মূলত সিল্ক সুতোতেই বোনা হয়। তবে জমিন অলংকরণের জন্য সোনা ও রূপার জড়ি এবং মিনা করার জন্য অন্য সুতোও ব্যবহৃত হয়।
প্রকারভেদে নাম: ডিজাইন অনুসারে বেনারসি শাড়ির বিভিন্ন নাম দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন- জংলা, বেল স্যাটিন, কড়িয়াল, জামেবার, স্বর্ণকাতান, চান্দেরি, অরগাঞ্জা, পাটোলা, কাতান, জুট কাতান , জর্জেট প্রভৃতি।
Anek sundor
ReplyDeleteসেরা ❤️ অনেক কিছু জানতে পারলাম 😊
ReplyDeleteDarun ,❤️
ReplyDeleteভালো হয়েছে ❤️
ReplyDeleteদারুন ❤
ReplyDeleteদারুন 💖
ReplyDeleteKhub bhalo💌
ReplyDelete