করজোড়ে স্বাগত কাঞ্চিপুরমের,ইতিহাস শোনায় কানাকানি

নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান
বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান। 
নানা পরিধানের মধ্যেও থাকে ঐক্য। এই ঐক্য আসে একে অপরকে জানার এবং সকলকে আপন করার মধ্য দিয়ে। পরিধানেও পরিলক্ষিত এই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। ভারতীয় সংস্কৃতিতে শাড়ির স্থান আলাদা করে বলে দিতে হয় না।বন্যেরা সুন্দর বনে, আর শাড়ি নারীর অঙ্গে।সে বাংলার তাঁতই হোক কি দক্ষিণী কাঞ্জিভরম, সবটাই জড়িয়ে দেশের মাটির সঙ্গে।
              দক্ষিণ ভারতের বিবাহ ও ইতিহাস, ভালোবাসার গন্ধ মেখে কাঞ্জিভরম হয়ে উঠেছে অনন্যা। আজ সে সুপ্রসিদ্ধ দেশের গন্ডী ছাড়িয়ে বিদেশেও। কেমন করে হল তার জন্ম? কেমন করেই বা সে হয়ে উঠল দক্ষিণী সুপারস্টার? জানেন কি, কতো দাম হাঁকাতে পারে সে? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
জন্ম ও ইতিহাস:
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কাঞ্চিপুরম(কাঞ্জিভরম) অঞ্চলের নামানুসারে এই শাড়ির এইরূপ নামকরণ। মনে করা হয়, রাজা কৃষ্ণদেব রায়ের সময় থেকে এই শাড়ি স্বমহিমায় বিদ্যমান। এছাড়াও হিন্দু পুরাণেও উল্লেখ রয়েছে কাঞ্জিভরম শাড়ির। প্রায় ৪০০ বছর আগে জন্ম এই কাঞ্জিভরম শাড়ির। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, কাঞ্জিভরম বুনন শিল্পীদের মহর্ষি মারকান্ডের বংশধর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কাঞ্জিভরম কে স্বয়ং ঈশ্বরের বুনন ও বলা হয়ে থাকে।

বুনন ও বৈশিষ্ট্য:
তামিলনাড়ুর শীতল স্থান সমূহে প্রথমে রেশমের চাষ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ব্যাঙ্গালোরে পাঠানো হয়। তারপর সেখান থেকে তামিলনাড়ু তে ফেরত এনে চাহিদা ও বুনন অনুযায়ী রঙ করা হয়। এই কাঞ্জিভরমে সোনার জরির কাজ করা হয়। এই জরি আসে সুদূর গুজরাটের সুরাট থেকে। কাঞ্জিভরম শাড়ি হাতে বোনা হয়। এই বুনন পদ্ধতিকে করভাই পদ্ধতি বলে। এক একটি কাঞ্জিভরম শাড়ি তৈরি করতে প্রায় ১০-১৫ দিন সময় লাগে। তাঁতিরা প্রতিদিন প্রায় ৮ ঘন্টা কাজ করে থাকেন। এই শাড়ির কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যথাক্রমে:
১. কাঞ্জিভরম শাড়ি তার বুননের জন্য শাড়ি দের রানী নামে পরিচিত। 
২. কাঞ্জিভরম সিল্কের ওপর বেনারসির কাজ এক দক্ষিণী ঐতিহ্য হিসেবে ধরা হয়। 
৩.এই শাড়ির পাড় খুব ভারী হয়। 
৪.গুণগতমান ও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য এই শাড়ি বুননের সময় মলবড়ি সিল্কের ব্যবহার করা হয়। 
৫. কাঞ্জিভরম সিল্ক দৈর্ঘ্যের দিক থেকেও বড়ো হয়।মূলত ৪৮ ইঞ্চির হয়ে থাকে এই শাড়ি। 
৬.এই শাড়ির নকশা তামিলনাড়ু সংস্কৃতির পরিচায়ক। শাড়ির নকশায় সূর্য, চন্দ্র, ময়ূর, হংস, রথ, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন মন্দিরের নকশা বর্তমান।
দাম:
কাঞ্জিভরম শাড়ি তৈরির রেশম সুতোর দাম ৪৫০০ টাকা প্রতি কেজি। ১ কেজি সুতো থেকে তিনটি কাঞ্জিভরম শাড়ি প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও সোনার জরি এবং বুনন তাকে করে দিয়েছে অমূল্য। অন্যান্য সিল্কের তুলনায় কাঞ্জিভরম সিল্কের দাম বেশি হয়।জানেন কি, এক একটি স্বর্ণখচিত শাড়ি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮০০০০ থেকে ১০০০০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকতে পারে। তবে মূলত ১০-১২০০০ টাকা থেকেই এর দাম শুরু হয়। কেনার কয়েক বছর বাদে এই শাড়ি বিক্রি করতে গেলেও বাজারে সোনার দর অনুযায়ী দাম পাওয়া যেতে পারে।
তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য ও কাঞ্জিভরম:
তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কাঞ্জিভরম। বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানেও নারীরা কাঞ্জিভরম পরিধান করে থাকেন। ২০০৫-০৬ সালে এই শাড়ির জন্য জি আই( জিওগ্রাফিক্যাল ইনডেক্স) বা ভৌগোলিক নির্দেশক তকমা পেয়েছে তামিলনাড়ু। 
             এভাবেই যুগ যুগ ধরে কাঞ্জিভরমের আঁচল বেয়ে চলে আসা ইতিহাস, তার ঐতিহ্য, সৌন্দর্য তাকে করে তুলেছে অনন্যসাধারণ, যা জগৎজোড়া সাফল্য আনতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই ফ্যাশনের দুনিয়ায় এ যে এক অসাধারণ কৃতিত্বের দাবি রাখে তা বলাই বাহুল্য। কি বলেন, কোনো এক অনুষ্ঠানে সকলকে তাক লাগাতে কাঞ্জিভরমের সাজ হয়ে যাক?

Comments

  1. বাহ। নতুন কিছু সম্পর্কে জানলাম।
    সুন্দরভাবে ব্যাখা করা একদম!

    ReplyDelete
  2. Yet another masterpiece❤️🙌

    ReplyDelete
  3. Khuv 3 sundor 🥰❤️

    ReplyDelete
  4. Great 🫶🏻♥️

    ReplyDelete
  5. লেখার হাত ক্রমশ ভালো হচ্ছে❤

    ReplyDelete
  6. লেখার হাত ক্রমশ ভালো হচ্ছে❤

    ReplyDelete
  7. সত্যি শাড়ি সম্পর্কে যে এত ব্যাখা আছে জানা ছিল না।পরে খুব ভালো লাগলো।👌♥️

    ReplyDelete
  8. Impressive ❤️

    ReplyDelete
  9. Baah! Osadharon👍❤️

    ReplyDelete
  10. অনেক নতুন তথ্য জানলাম।Keep it up❤️

    ReplyDelete
  11. অপূর্ব হয়েছে। ❤

    ReplyDelete
  12. Need more things like this maa❤

    ReplyDelete
  13. Khub sudor likhecho

    ReplyDelete
  14. khub sundor likhe6his✨

    ReplyDelete
  15. Khub sundor....onek kichhu jana gelo😊❤️

    ReplyDelete
  16. Very much informative ❤️

    ReplyDelete
  17. Suparna Bhattacharjee5 June 2023 at 22:16

    লেখিকা কে ধন্যবাদ ❤️
    অনেক সমৃদ্ধ হলাম ✨

    ReplyDelete
  18. Suparna Bhattacharjee5 June 2023 at 22:17

    লেখিকা কে ধন্যবাদ ❤️
    অনেক সমৃদ্ধ হলাম ✨

    ReplyDelete
  19. Good effort 👍

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

বালুচরী কে বাহবা দেয় জগত, উজ্জ্বল হল বাংলার মুখ

পৈঠানীর তৈরি পান্ডুলিপি, জগৎজোড়া নাম তার

বেনারসির রূপকথা ,রূপকথার বেনারসি