মুগায় ছড়ানো মুগ্ধতা, রাখল 'অহমর মান'

বৈচিত্র্যের দেশ ভারতবর্ষ। নানা ভাষা, নানা সংস্কৃতির পাশাপাশি পোশাকেও এই বৈচিত্র্য স্পষ্টতই বিদ্যমান। ভারতীয় নারীর প্রধান পোশাক শাড়ি। ক্ষেত্র বিশেষে তা লেহেঙ্গা ( মূলত উত্তর ও মধ্য ভারত) , মেখলা( অসম) তেও পর্যবসিত হয়। কিন্তু জানেন কি, মেখলা ছাড়াও, আসামের একটি বিশেষ শাড়ি রয়েছে, যার সুখ্যাতি জগৎজোড়া? মুগা সিল্ক হল অসমের এক বহু পুরোনো ও বিখ্যাত শাড়ি। কীভাবে তৈরি হয় এই শাড়ি?অন্যান্য সিল্কের থেকে কেনই বা তা ভিন্ন?কিভাবেই বা তা হয়ে উঠল তা অসমীয়া সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অঙ্গ? মুগা সিল্কের জন্মই বা কি করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত
ইতিহাস:
রেশম শিল্প অসমের এক বহু পুরোনো শিল্প।বুনন শিল্পের জন্য পুরাকাল থেকেই অসমের সুখ্যাতি প্রচুর। কিছু সূত্র মারফত জানা যায়, বাল্মীকির রামায়ণে মুগা সিল্কের উল্লেখ রয়েছে। কিষ্কিন্ধ্যা কান্ডে বলা হয়েছে, পুবে যাত্রা করতে হলে পূর্বে মগধ, অঙ্গ, পুন্ড্র পেরিয়ে রেশমের ভূমিতে পদার্পণ করতে হবে। এমনকি কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও মুগা সিল্কের উল্লেখ বর্তমান। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে মুগার মাখনের মতো রং, সূর্যের ন্যায় ঔজ্জ্বল্যের প্রশংসা করা হয়েছে। আহোম রাজবংশ অসমে ক্ষমতায় আসার পর, অসমের সিল্কের বুনন বৃদ্ধি পায়। অহোম রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় মুগা চাষ এবং মুগা থেকে তৈরি মুগা সিল্ক শাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ক্রমশ এই শিল্প একাধিপত্য বিস্তার করে। মুগা সিল্ক জায়গা করে নেয় অসমীয়া রমণীদের সাজসজ্জায়। যা আজও সমানভাবে প্রসিদ্ধ। রেশম পোকা সম্বন্ধীয় গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কামরূপ রাজ্যের গারো পাহাড় ও শুতীয়ার ঢাকুয়াখানায় বেড়ে ওঠে। অসমের নারীরা প্রথম এর চাষ শুরু করেন এবং সুয়ালকুচিতে এর বৃদ্ধি লক্ষ্যণীয় হয়ে ওঠে। ইতিহাসের পাতায় কান পাতলে শোনা যায়, সুয়ালকুচির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন পাল রাজা ধর্মপাল। ধর্মপাল ২৬ টি পরিবারকে তান্তিকুচি থেকে সুয়ালকুচিতে নিয়ে আসেন এবং বর্তমান গুয়াহাটির কাছে রেশম শিল্পীদের জন্য একটি গ্রাম প্রস্তুত করেন। রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রেশমের বুনন বৃদ্ধি পায়। 


উৎস:
মুগা আসলে একটি প্রজাতির পোকা থেকে তৈরি রেশম। শুধুমাত্র অসমেই এই মুগা বিদ্যমান। কারণ অসমের সমৃদ্ধ জলবায়ু, যা মুগা তৈরির জন্য অত্যন্ত সুষম। এই পোকা সোয়ালু,মেজাংকারী গাছের পাতা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই কীটের চারটি দশা বিদ্যমান- ডিম, লার্ভা, পিউপা বা পলু, মথ। লার্ভা দশা সম্পন্ন করার পর তারা বাসস্থান যে উদ্ভিদ তা বেয়ে নীচে নেমে আসে। সোয়ালু ও মেজংকারী গাছেই এদের বাড়বাড়ন্ত। লার্ভা দশা পরিপূর্ণ হলে চাষীরা এই লার্ভা সংগ্রহ করে। তার কোকুন বা বহিরাবরণ থেকেই তৈরি হয় মুগা।

বুনন:
মুগার বুনন প্রধানত হাতেই করা হয়। একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে হাতেই তৈরি হয় এই মুগা সিল্ক শাড়ি। 

প্রসিদ্ধ স্থান:
উৎপাদনের দিক থেকে অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার যোরহাট, শিবসাগর, ডিব্রুগড়, কামরূপ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। কামরূপ জেলার সুয়ালকুচি( মুগার জন্ম ক্ষেত্র) হল বিশ্বের বৃহত্তম রেশম উৎপাদনকারী গ্রাম। যোরহাট জেলার লাভোইগড়ে এর গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র অবস্থিত। 

দাম:
এক কেজি মুগা সুতোর মূল্য প্রায় ৫০০০ টাকা। সুতরাং মুগা থেকে তৈরি শাড়ি, মেখেলা কিংবা পাঞ্জাবি ও শার্ট সবকটিই বেশ ভালো দাম হাঁকতে পারে, এমনটি বলাই বাহুল্য। সাধারণত ভারতীয় মুদ্রায় দশ হাজার টাকা থেকে শুরু হয় মুগা সিল্ক শাড়ি যা কিছু ক্ষেত্রে পঞ্চাশ হাজারও অতিক্রম করে। 

মুগা সিল্ক ও অসমের ঐতিহ্য:
ভারতে প্রথম অসমেই মুগার চাষ শুরু হয়। ধীরে ধীরে মুগা অসমের বুনন শিল্প থেকে উঠে আসে অসমীয়া সংস্কৃতির বাহক হিসেবে।পরবর্তীতে, ২০০৭ সালে যা জি আই ট্যাগ লাভ করে। 
   কাজেই নিজেকে নতুন রূপে সাজাতে মুগা সিল্ক যে এক অবর্ণনীয় ভূমিকা গ্রহণ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Comments

  1. Bahh khub sundor hoya cha

    ReplyDelete
  2. খুব সুন্দর ❤️

    ReplyDelete
  3. খুব সুন্দর ❤️

    ReplyDelete
    Replies
    1. খুব সুন্দর❤️

      Delete
  4. অসাধারণ ❤️ দারুন লাগলো পড়ে 😀

    ReplyDelete
  5. খুব সুন্দর❤️

    ReplyDelete
  6. খুব সুন্দর❤️

    ReplyDelete
  7. খুব সুন্দর 🥰খুব সুন্দর 🥰

    ReplyDelete
  8. Nice ❤️Keep it up 😌❤️

    ReplyDelete
  9. সুন্দর হয়েছে ❤

    ReplyDelete
  10. Khub sundor article ta❤️

    ReplyDelete
  11. Suparna Bhattacharjee29 May 2023 at 04:44

    অনেক সমৃদ্ধ হলাম ❤️

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

বালুচরী কে বাহবা দেয় জগত, উজ্জ্বল হল বাংলার মুখ

পৈঠানীর তৈরি পান্ডুলিপি, জগৎজোড়া নাম তার

বেনারসির রূপকথা ,রূপকথার বেনারসি